আমদানি চাহিদার চেয়ে বেশি তবু দাম বাড়ছে এলাচের

দেশে প্রতি মাসে ৩৫০-৪০০ টন এলাচের চাহিদা রয়েছে। গত বছরের নভেম্বর থেকে সর্বশেষ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতি মাসে গড়ে ৪১৫ টনের মতো পণ্যটির আমদানি হয়েছে।

দেশে প্রতি মাসে ৩৫০-৪০০ টন এলাচের চাহিদা রয়েছে। গত বছরের নভেম্বর থেকে সর্বশেষ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতি মাসে গড়ে ৪১৫ টনের মতো পণ্যটির আমদানি হয়েছে। অর্থাৎ গড় চাহিদার তুলনায় আমদানি বেশি হয়েছে। এর পরও সরবরাহ সংকট দেখিয়ে দেশের বাজারে এখনো ঊর্ধ্বমুখী এলাচের দাম। এক সপ্তাহের ব্যবধানে মসলাপণ্যটির দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ৭৫০ টাকা। সাধারণ ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ডলারের উচ্চ মূল্যসহ দেশে ভোগ্যপণ্য বাজারের অস্থিতিশীলতাকে পুঁজি করে কৃত্রিমভাবে পণ্যটির দাম বাড়ানো হচ্ছে।

দেশে ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় বাজার খাতুনগঞ্জ। এ অঞ্চলের বিভিন্ন ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এক সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি এলাচের দাম ছিল ৩ হাজার ১৫০ টাকা। গতকাল তা ৩ হাজার ৯০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে গতকাল এর আগের দিনের তুলনায় মসলাপণ্যটির দাম ১৫-২০ টাকা কমেছে।

ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানগুলোর দেয়া তথ্যে দেখা গেছে, মঙ্গলবার প্রতি কেজি এলএমজি ব্র্যান্ডের এলাচ বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার ৯১৫ থেকে ৩ হাজার ৯২০ টাকায়। সোমবার তার দাম ছিল ৩ হাজার ৮৫০ টাকা। এলএমজি ছাড়াও ওয়াইএমটু, এসএমজি ব্র্যান্ডের এলাচের দামও এ সময় বেড়েছে।

এদিকে দেশে প্রতি মাসে গড় চাহিদার তুলনায় বেশি এলাচ আমদানি হচ্ছে। প্রতি মাসে ৩৫০-৪০০ টন হিসাবে পণ্যটির বার্ষিক চাহিদা প্রায় সাড়ে চার হাজার টন। ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে সর্বশেষ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে এলাচ আমদানি হয়েছে ৪ হাজার ৯৭৭ টন। অর্থাৎ প্রতি মাসে গড়ে ৪১৫ টনের মতো আমদানি হয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সর্বশেষ ছয় মাসে এলাচ আমদানি হয়েছে ৩ হাজার ৩৮ টন। এর মধ্যে চলতি বছরের জুনে পণ্যটির আমদানি সবচেয়ে বেড়েছে।

এ সময় আমদানির পরিমাণ ছিল প্রায় ৮৫০ টন, মে মাসে যা ছিল ২১০ টন। জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে দেশে যথাক্রমে ৭১৫, ৩৩৫ ও ৬০৬ টন এলাচ আমদানি হয়েছে। সর্বশেষ অক্টোবরে এটি ছিল ৩২২ টন।

ব্যবসায়ীরা জানান, ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানগুলো স্লিপের মাধ্যমে এলাচ লেনদেন করে কৃত্রিমভাবে দাম বাড়াচ্ছে। দুই মাস আগেও পাইকারি বাজারে পণ্যটির দাম কেজিপ্রতি ৩ হাজার টাকার নিচে ছিল।

কিছু ব্যবসায়ীর মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ভোজ্যতেল, চিনিসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। তার প্রভাব পড়েছে এলাচের বাজারে। ট্রেডিং ও ডিও ব্যবসায়ীদের একটি বড় অংশ এলাচে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, খাতুনগঞ্জের এশিয়া মার্কেট, নবী মার্কেট, বাদশা মার্কেট, ইলিয়াস মাকের্টের বিভিন্ন ট্রেডিং প্রতিষ্ঠান মূল পণ্যের বিপরীতে স্লিপ বাণিজ্য বাড়িয়ে দেয়ায় এলাচের বাজার দ্রুত ওঠানামা করছে।

খাতুনগঞ্জের মসলা ব্যবসায়ী মেসার্স এবি ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী অমর কান্তি দাশ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বিশ্বের প্রধান এলাচ উৎপাদনকারী দেশগুলোয় বুকিং দর বেশি থাকায় দেশের বাজারে এর প্রভাব পড়েছে। বৈশ্বিক নতুন মৌসুমের এলাচের বুকিংকে সামনে রেখে পুরনো মৌসুমের এলাচের দামও বাড়ছে।’

ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বে সবচেয়ে বেশি এলাচ উৎপাদন হয় গুয়াতেমালা ও ভারতে। তবে পণ্যটির দাম মূলত নির্ভর করে গুয়াতেমালার উৎপাদন ও বাজারমূল্যের ওপর।

আরও